
বাংলাদেশে নারী ও শিশুর অপুষ্টি: নীরব মহামারি যা দেশের ভবিষ্যৎকে খেয়ে ফেলছে!
ডা. জেরিন ইমাম
প্রতি ৩ জন শিশুর মধ্যে ১ জন এখনও অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রতি ৪ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ১ জন রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয় — এগুলো আমাদের দেশের ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা।অপুষ্টির ভয়াবহ চিত্রশিশুদের মধ্যে স্টান্টিং (বয়স অনুযায়ী উচ্চতা কম): প্রায় ২৮%
ওয়েস্টিং (তীব্র অপুষ্টি): প্রায় ১০%
গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের মধ্যে রক্তশূন্যতা: প্রায় ৪০% এর বেশি
অপুষ্টি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এবং শেখার ক্ষমতা হ্রাস করে। আর মায়ের অপুষ্টি সরাসরি শিশুর জন্মগত সমস্যা তৈরি করে।কেন এখনও এত বেশি অপুষ্টি?দারিদ্র্য ও খাদ্যের অপর্যাপ্ততা
অজ্ঞতা ও ভুল খাদ্যাভ্যাস
স্যানিটেশনের অভাব
মায়েদের মধ্যে কম বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণ
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
লক্ষণসমূহ যা অবশ্যই জানবেনশিশুর ওজন না বাড়া
ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া
চুল পড়া ও চামড়ার সমস্যা
মায়েদের অবসাদ, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা

আমরা কী করতে পারি?
প্রথম ১০০০ দিন (গর্ভাবস্থা থেকে শিশুর ২ বছর বয়স পর্যন্ত) সুষম খাবার নিশ্চিত করা
আয়রন, ভিটামিন এ, জিঙ্ক ও আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া
বুকের দুধ খাওয়ানোকে উৎসাহিত করা
সরকারি পুষ্টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
অপুষ্টি রোধ করা সম্ভব — শুধু সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ দরকার। আজ থেকেই শুরু করি আমাদের পরিবার থেকে।
Views: 0
